২০২৪ সালের
কর আইনজীবী (ITP) নিবন্ধন পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের সমাধান নিচে দেওয়া হলো। গাণিতিক সমস্যাগুলো
আয়কর আইন, ২০২৩ অনুযায়ী সমাধান করা হয়েছে।
1. দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে আয়করের অবদান (১০টি বাক্য):
১. আয়কর হলো সরকারের রাজস্ব আয়ের প্রধান উৎস, যা দিয়ে জাতীয় বাজেট বাস্তবায়ন করা হয়।
২. এটি দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়ন যেমন- পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল ও মহাসড়ক নির্মাণে অর্থ যোগান দেয়।
৩. শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়ন এবং সরকারি সেবার মান বাড়াতে আয়কর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
৪. আয়করের মাধ্যমে সমাজের ধনিক শ্রেণীর কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করে দরিদ্রদের কল্যাণে ব্যয় করা হয়, যা বৈষম্য কমায়।
৫. এটি মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সরকারকে সহায়তা করে।
৬. অভ্যন্তরীণ সম্পদ বৃদ্ধির মাধ্যমে বৈদেশিক ঋণের ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে আয়কর সাহায্য করে।
৭. সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী (যেমন- বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা) সচল রাখতে এই অর্থের ব্যবহার হয়।
৮. দেশের শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সরকারি বিনিয়োগের উৎস হলো আয়কর।
৯. ডিজিটাল বাংলাদেশ ও স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে আয়করের অবদান অনস্বীকার্য।
১০. নিয়মিত আয়কর প্রদান নাগরিক দায়িত্ববোধ জাগ্রত করে এবং সুশাসন নিশ্চিত করতে সহায়তা
করে।
2. একজন কর আইনজীবী হিসেবে আয়কর রাজস্ব আহরণে আপনার ভূমিকা ও গুরুত্বের উপর ১০ (দশ) টি বাক্য লিখুন
একজন কর আইনজীবী হিসেবে আমি একজন করদাতাকে যে সকল সেবা প্রদান করতে পারি, তার একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা নিচে দেওয়া হলো:
১. আমি করদাতার বার্ষিক আয় ও ব্যয়ের হিসাব পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ করে সঠিক আয়কর রিটার্ন (Tax Return) প্রস্তুত ও দাখিল নিশ্চিত করি।
২. আয়কর আইনের বিভিন্ন জটিল ধারা ও বিধিমালার মধ্যে করদাতাকে সঠিক পরামর্শ প্রদান করি যাতে তিনি আইনি জটিলতা এড়িয়ে চলতে পারেন।
৩. করদাতার পক্ষ থেকে আয়কর সংশ্লিষ্ট যেকোনো শুনানিতে (Hearing) উপস্থিত হওয়া এবং কর নির্ধারণী কর্মকর্তার সামনে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করা আমার অন্যতম কাজ।
৪. আইনগত সুযোগ-সুবিধা ও কর ছাড়ের (Tax Rebate) সঠিক প্রয়োগের মাধ্যমে করদাতার করের বোঝা (Tax Liability) যথাসম্ভব কমিয়ে আনতে সহায়তা করি।
৫. করদাতার কোনো বিষয়ের ওপর আপত্তি থাকলে তা আপিল ট্রাইব্যুনাল বা উচ্চ আদালতে আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে সমাধান করার দায়িত্ব পালন করি।
3. কর আইনজীবী হিসেবে জাতীয় রাজস্ব আহরণে আপনার ভূমিকা ও গুরুত্বের ওপর ১০টি বাক্য নিচে দেওয়া হলো:
১. কর আইনজীবীগণ করদাতা এবং সরকারের মধ্যে একটি সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করেন, যা রাজস্ব আহরণ প্রক্রিয়াকে গতিশীল করে।
২. জটিল আয়কর আইনসমূহ করদাতার কাছে সহজবোধ্য করে তোলার মাধ্যমে তাদের নিয়মিত কর প্রদানে উৎসাহিত করেন।
৩. করদাতাদের সঠিক আয় নিরূপণ এবং নিখুঁতভাবে রিটার্ন প্রস্তুত করতে সহায়তা করেন, যা সরকারের রাজস্ব ফাঁকি রোধে ভূমিকা রাখে।
৪. নতুন করদাতাদের টিআইএন (TIN) গ্রহণ এবং কর জালের (Tax Net) আওতায় আনতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।
৫. কর আইনের সর্বশেষ পরিবর্তন ও পরিপত্র সম্পর্কে করদাতাদের সচেতন করার মাধ্যমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করেন।
৬. উৎস কর (TDS) এবং অগ্রিম কর (Advance Tax) সঠিক সময়ে সরকারি কোষাগারে জমা নিশ্চিত করতে করদাতাদের পরামর্শ প্রদান করেন।
৭. করদাতাদের বিনিয়োগ রেয়াত ও অন্যান্য কর অব্যাহতি সুবিধা পেতে সহায়তা করেন, যা নাগরিকদের আইনানুগভাবে কর প্রদানে আগ্রহী করে।
৮. বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি (ADR) পদ্ধতির মাধ্যমে দীর্ঘদিনের বকেয়া রাজস্ব দ্রুত আদায়ে কর্তৃপক্ষকে সহায়তা করেন।
৯. বিভিন্ন সেবার ক্ষেত্রে রিটার্ন দাখিলের প্রমাণপত্র (PSR) নিশ্চিত করার মাধ্যমে কর সংস্কৃতির প্রসারে কাজ করেন।
১০. সরকারের রাজস্ব নীতি বাস্তবায়নে এবং একটি শক্তিশালী জাতীয় অর্থনীতি গড়ে তুলতে তারা পেশাদারিত্বের সাথে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।
4. উৎস করের ২ (দুই) টি উদাহরণ দিন এবং উৎস করের উপর ৫ (পাঁচ) টি বাক্য লিখুন।
উৎস কর (Tax Deducted at Source - TDS) সংক্রান্ত আপনার প্রশ্নের উত্তর নিচে দেওয়া হলো:
উৎস করের ২ (দুই) টি উদাহরণ: ১. ব্যাংক আমানতের ওপর কর: ব্যাংক যখন গ্রাহকের সঞ্চয়ী হিসাব বা স্থায়ী আমানতের (FDR) ওপর অর্জিত সুদ প্রদান করে, তখন নির্দিষ্ট হারে (যেমন- ১০% বা ১৫%) কর কেটে রেখে বাকি টাকা প্রদান করে। ২. বেতন থেকে কর কর্তন: কোনো প্রতিষ্ঠান তার কর্মচারীকে বেতন প্রদানের সময় যদি সেই বেতন করযোগ্য সীমার উপরে হয়, তবে প্রতি মাসে আনুমানিক করের একটি অংশ অগ্রিম কেটে সরকারি কোষাগারে জমা দেয়।
উৎস করের ওপর ৫ (পাঁচ) টি বাক্য: ১. উৎস কর হলো এমন একটি পদ্ধতি যেখানে আয়ের উৎসস্থলেই আয়ের একটি নির্দিষ্ট অংশ কর হিসেবে কেটে রাখা হয়। ২. এটি সরকারের রাজস্ব সংগ্রহের একটি অন্যতম প্রধান এবং সহজ মাধ্যম, যা কর ফাঁকি রোধে কার্যকর ভূমিকা পালন করে।
৩. আয়কর আইন ২০২৩ অনুযায়ী, বিভিন্ন ধরনের পেমেন্ট যেমন- ঠিকাদারি সেবা, সরবরাহ, বাড়ি ভাড়া বা পেশাগত ফি প্রদানের সময় উৎস কর কাটার বিধান রয়েছে। ৪. আয়ের প্রাপকের পক্ষ থেকে এই অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয় এবং বছর শেষে করদাতা তার মোট করদায়ের সাথে এই অগ্রিম কর সমন্বয় করতে পারেন। ৫. নির্দিষ্ট সময়ে উৎস কর কর্তন এবং তা সরকারি চালানের মাধ্যমে জমা দেওয়া সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান বা কর্তৃপক্ষের জন্য একটি আইনি বাধ্যবাধকতা।
5. দানকরের উপর ৫ (পাঁচ) টি বাক্য লিখুন।
দানকর (Gift Tax) সংক্রান্ত ৫টি গুরুত্বপূর্ণ বাক্য নিচে দেওয়া হলো:
১. দানকর হলো কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে স্বেচ্ছায় এবং প্রতিদানহীনভাবে স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তি হস্তান্তরের ওপর আরোপিত কর।
২. বাংলাদেশে দানকর আইন, ১৯৯০ অনুযায়ী নির্দিষ্ট সীমার অতিরিক্ত মূল্যের সম্পত্তি দানের ক্ষেত্রে এই কর প্রযোজ্য হয়।
৩. জীবনসঙ্গী (স্বামী/স্ত্রী), রক্ত সম্পর্কের নিকটাত্মীয় (যেমন: বাবা-মা, ভাই-বোন, সন্তান) এবং ধর্মীয় বা জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠানকে দান করলে সাধারণত কোনো দানকর দিতে হয় না।
৪. দান গ্রহণকারী নয়, বরং যিনি সম্পত্তি দান করছেন (দাতা), তাকেই এই কর সরকারি কোষাগারে জমা দিতে হয়।
৫. আয়কর রিটার্নে দাতার সম্পত্তির সঠিক হিসাব প্রদর্শন এবং কর ফাঁকি রোধে দানকর ব্যবস্থা একটি শক্তিশালী ভূমিকা পালন করে।
6. বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি (Alternative Dispute Resolution)-ADR এর উপর ৫ (পাঁচ) টি বাক্য লিখুন।
বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি (Alternative Dispute Resolution)-ADR এর উপর ৫টি বাক্য:
১. বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি বা ADR হলো প্রচলিত আদালতের দীর্ঘসূত্রতা এড়িয়ে করদাতা এবং কর কর্তৃপক্ষের মধ্যে সমঝোতার মাধ্যমে বিরোধ মীমাংসার একটি বিশেষ পদ্ধতি।
২. আয়কর আইন অনুযায়ী, আপিল ট্রাইব্যুনাল বা উচ্চ আদালতে বিচারাধীন যেকোনো মামলা নিষ্পত্তির জন্য করদাতা ADR-এর আবেদন করতে পারেন।
৩. এই পদ্ধতিতে একজন নিরপেক্ষ 'সহায়ক' (Facilitator) উভয় পক্ষের মধ্যে মধ্যস্থতা করেন, যা অত্যন্ত দ্রুত ও ব্যয়সাশ্রয়ী।
৪. ADR-এর মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তি হলে উভয় পক্ষ তা মেনে নিতে বাধ্য থাকে এবং এর বিরুদ্ধে অন্য কোনো আদালতে আপিল করা যায় না।
৫. এটি করদাতা ও কর বিভাগের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা বৃদ্ধি করে এবং সরকারের বকেয়া রাজস্ব দ্রুত আদায়ে সহায়তা করে।
7. উপ কর কমিশনারের আদেশে করদাতা সংক্ষুব্ধ হলে একজন কর আইনজীবী হিসেবে করদাতাকে আপনি কি পরামর্শ দিবেন- তার উপর ৫ (পাঁচ) টি বাক্য লিখুন।
উপ কর কমিশনারের আদেশে করদাতা সংক্ষুব্ধ হলে কর আইনজীবীর পরামর্শ (৫টি বাক্য):
১. প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে আমি করদাতাকে উপ কর কমিশনারের আদেশের কপিটি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করে সংক্ষুব্ধ হওয়ার যৌক্তিক কারণগুলো চিহ্নিত করার পরামর্শ দেব।
২. যদি আদেশে কোনো আইনগত বা পদ্ধতিগত ভুল থাকে, তবে আদেশ প্রাপ্তির নির্দিষ্ট সময়ের (সাধারণত ৬০ দিন) মধ্যে সংশ্লিষ্ট যুগ্ম বা অতিরিক্ত কর কমিশনার (আপিল) এর নিকট আপিল দায়ের করার পরামর্শ দেব।
৩. আপিল দায়ের করার আগে দাবিকৃত করের একটি নির্দিষ্ট অংশ (আইন অনুযায়ী নির্ধারিত শতাংশ) জমা দিয়ে আপিল আবেদনটি আইনত বৈধ করার নির্দেশনা দেব।
৪. যদি করদাতা দীর্ঘমেয়াদী মামলা এড়াতে চান, তবে তাকে 'বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি' বা ADR পদ্ধতিতে গিয়ে আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত সমস্যা সমাধানের সুবিধাগুলো বুঝিয়ে বলব।
৫. করদাতাকে আশ্বস্ত করব যে, সঠিক নথিপত্র এবং আইনগত যুক্তি উপস্থাপনের মাধ্যমে উচ্চতর কর্তৃপক্ষ বা আপিল ট্রাইব্যুনালে ন্যায়বিচার পাওয়া সম্ভব।
8. গাণিতিক
সমস্যা সমাধান (করদায় নিরূপণ):
প্রশ্ন:
জনাব আবদুর রহিমের করযোগ্য আয় ২০,০০,০০০ টাকা এবং বিনিয়োগজনিত রেয়াত ৩০,০০০ টাকা। প্রদেয়
কর কত?
সমাধান
(২০২৪-২৫ করবর্ষের সাধারণ কর হার অনুযায়ী):
- প্রথম ৩,৫০,০০০ টাকার ওপর কর (০%)
= ০ টাকা
- পরবর্তী ১,০০,০০০ টাকার ওপর কর
(৫%) = ৫,০০০ টাকা
- পরবর্তী ৩,০০,০০০ টাকার ওপর কর
(১০%) = ৩০,০০০ টাকা
- পরবর্তী ৪,০০,০০০ টাকার ওপর কর
(১৫%) = ৬০,০০০ টাকা
- পরবর্তী ৫,০০,০০০ টাকার ওপর কর
(২০%) = ১,০০,০০০ টাকা
- অবশিষ্ট (২০,০০,০০০ - ১৬,৫০,০০০)
= ৩,৫০,০০০ টাকার ওপর (২৫%) = ৮৭,৫০০ টাকা
- মোট আরোপিত কর = (০ + ৫,০০০ + ৩০,০০০
+ ৬০,০০০ + ১,০০,০০০ + ৮৭,৫০০) = ২,৮২,৫০০ টাকা
- বিনিয়োগজনিত কর রেয়াত (দেওয়া আছে)
= ৩০,০০০ টাকা
- নীট প্রদেয় কর = (২,৮২,৫০০ - ৩০,০০০)
= ২,৫২,৫০০ টাকা।
9. আয়কর আইন, ২০২৩ কিভাবে সংশোধন করা যায়- তার উপর ৫ (পাঁচ) টি বাক্য লিখুন।
আয়কর আইন, ২০২৩ সংশোধন করার প্রক্রিয়া সম্পর্কে ৫টি বাক্য নিচে দেওয়া হলো:
১. আয়কর আইন সংশোধন করার চূড়ান্ত ক্ষমতা জাতীয় সংসদের ওপর ন্যস্ত।
২. প্রতি বছর জাতীয় বাজেটের সময় 'অর্থ বিল' (Finance Bill) এর মাধ্যমে এই আইনের প্রয়োজনীয় পরিবর্তন বা সংশোধন প্রস্তাব করা হয়।
৩. জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (NBR) বিভিন্ন অংশীজন ও কর আইনজীবীদের সাথে আলোচনার মাধ্যমে সংশোধনের খসড়া তৈরি করে অর্থ মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করে।
৪. প্রস্তাবিত সংশোধনসমূহ মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পর জাতীয় সংসদে উত্থাপিত হয় এবং সংসদ সদস্যদের ভোটে পাস হওয়ার পর তা আইনে পরিণত হয়।
৫. এছাড়া বিশেষ প্রয়োজনে বা জরুরি পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রপতি অধ্যাদেশের মাধ্যমেও আয়কর আইনের কোনো ধারা সংশোধন বা নতুন নিয়ম জারি করতে পারেন।
10. করদিবসের উপর ৫ (পাঁচ) টি বাক্য লিখুন।
করদিবস (Tax Day) সংক্রান্ত ৫টি গুরুত্বপূর্ণ বাক্য নিচে দেওয়া হলো:
১. বাংলাদেশে প্রতি বছর ৩০ নভেম্বর তারিখটি জাতীয় 'করদিবস' হিসেবে পালন করা হয়।
২. এটি একজন ব্যক্তি করদাতার আয়কর রিটার্ন দাখিল করার নির্ধারিত সর্বশেষ দিন।
৩. করদাতাদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং কর প্রদানে উৎসাহ প্রদানের লক্ষ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (NBR) দেশব্যাপী এই দিনটি উদযাপন করে।
৪. করদিবসের মধ্যে রিটার্ন দাখিলে ব্যর্থ হলে করদাতাকে আইন অনুযায়ী বিলম্ব ফি বা জরিমানা গুনতে হতে পারে।
৫. এই দিনটিকে কেন্দ্র করে আয়কর মেলা বা বিশেষ সেবা প্রদান করা হয়, যাতে করদাতারা কোনো ঝামেলা ছাড়াই সহজে তাদের আয়কর সংক্রান্ত কাজ সম্পন্ন করতে পারেন।
১১. বিক্রীত
পণ্যের ব্যয় (COGS) পরিগণনা:
সূত্র: প্রারম্ভিক
মজুদ + ক্রয় + অন্তর্মুখী পরিবহন + মজুরী - সমাপনী মজুদ
- ৫০০ + ৭০০ + ৫০ + ২০ - ২০০
- ১২৭০ - ২০০ = ১,০৭০ টাকা।
১২. মুনাফা
ও মুনাফার হার পরিগণনা:
- গ্রস মুনাফা (Gross Profit): নীট
বিক্রয় - বিক্রীত পণ্যের ব্যয় = ১,০০০ - ৮০০ = ২০০ টাকা।
- Gross Profit হার: (২০০ ÷ ১,০০০)
× ১০০ = ২০%।
- নীট মুনাফা (Net Profit): গ্রস মুনাফা
- পরিচালনা ব্যয় = ২০০ - ১৫০ = ৫০ টাকা।
13. জুলাই ২০২৪ গণঅভ্যুত্থান এর উপর ১০ (দশ) টি বাক্য লিখুন।
জুলাই ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি যুগান্তকারী অধ্যায়। এই বিষয়ের ওপর ১০টি গুরুত্বপূর্ণ বাক্য নিচে দেওয়া হলো:
১. জুলাই ২০২৪ গণঅভ্যুত্থান ছিল মূলত বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মাধ্যমে শুরু হওয়া একটি অভূতপূর্ব গণজাগরণ।
২. সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে শুরু হওয়া এই আন্দোলন দ্রুতই সাধারণ মানুষের সমর্থন পেয়ে একটি জাতীয় বিদ্রোহে পরিণত হয়।
৩. ৫ই আগস্ট ২০২৪ তারিখে এই আন্দোলনের চূড়ান্ত পর্যায়ে দীর্ঘ ১৫ বছরের স্বৈরশাসনের অবসান ঘটে।
৪. আবু সাঈদ, মুগ্ধসহ শত শত শিক্ষার্থীর আত্মত্যাগ এই আন্দোলনকে বিপ্লবের রূপ দেয় এবং জনগণের মধ্যে অদম্য সাহস জোগায়।
৫. এই অভ্যুত্থানে দল-মত নির্বিশেষে সাধারণ ছাত্র, শিক্ষক, অভিভাবক ও মেহনতি মানুষ রাজপথে নেমে আসে।
৬. ডিজিটাল মাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো এই আন্দোলন ছড়িয়ে দিতে এবং জনমত গঠনে শক্তিশালী ভূমিকা পালন করে।
৭. আন্দোলনের অন্যতম লক্ষ্য ছিল রাষ্ট্রে ইনসাফ প্রতিষ্ঠা, বাকস্বাধীনতা পুনরুদ্ধার এবং সকল প্রকার বৈষম্যের অবসান ঘটানো।
৮. এই গণঅভ্যুত্থানের ফলে বাংলাদেশে একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হয়, যার নেতৃত্বে আছেন নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
৯. এটি বিশ্বের ইতিহাসে তরুণ প্রজন্মের নেতৃত্বে সফল হওয়া অন্যতম একটি অহিংস ও সাহসী বিপ্লবের উদাহরণ হিসেবে স্বীকৃত।
১০. জুলাই বিপ্লব পরবর্তী সময়ে "নতুন বাংলাদেশ" গড়ার স্বপ্ন এবং রাষ্ট্র সংস্কারের অঙ্গীকার বর্তমান প্রজন্মের প্রধান লক্ষ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।
১৪. এক কথায়
প্রকাশ:
(ক) যা বপন করা হয়েছে: উপ্ত।
(খ) দান করিবার ইচ্ছা: দিত্সা।
(গ) নূপুরের ধ্বনি: নিক্বণ।
(ঘ) আহারে সংযম করা: মিতাহারী।
(ঙ) কর্ম সম্পাদনে পরিশ্রমী: কর্মঠ।
15. পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বৃক্ষ রোপণের বিকল্প নেই'- এ প্রসঙ্গে ৫ (পাঁচ) টি বাক্য লিখুন।
'পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বৃক্ষ রোপণের বিকল্প নেই'—এই প্রসঙ্গে ৫টি গুরুত্বপূর্ণ বাক্য নিচে দেওয়া হলো:
১. বৃক্ষ বায়ুমণ্ডল থেকে ক্ষতিকারক কার্বন ডাই-অক্সাইড শোষণ করে এবং আমাদের বেঁচে থাকার জন্য অপরিহার্য অক্সিজেন সরবরাহ করে পরিবেশ নির্মল রাখে। ২. গাছপালা মাটির ক্ষয় রোধ করে এবং মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি করার মাধ্যমে প্রাকৃতিক দুর্যোগ যেমন—বন্যা ও ভূমিধস প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
৩. বৃক্ষ রোপণের মাধ্যমে বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ও গ্রিনহাউস গ্যাসের প্রভাব কমানো সম্ভব, যা জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় অত্যন্ত জরুরি।
৪. জীববৈচিত্র্য রক্ষায় বৃক্ষ বন্যপ্রাণী ও পাখিদের নিরাপদ আবাসস্থল এবং খাদ্যের জোগান দিয়ে বাস্তুসংস্থানের ভারসাম্য বজায় রাখে।
৫. পর্যাপ্ত গাছপালা বৃষ্টিপাত ঘটাতে সহায়তা করে এবং প্রখর রোদে শীতল ছায়া দিয়ে পরিবেশের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়ক হিসেবে কাজ করে।
16. ইংরেজিতে অনুবাদ করুন:
ধূমপান স্বাস্থ্যের জন্য খুবই ক্ষতিকর। এটি পরিবেশকে দূষিত করে। ধূমপান বিভিন্ন রোগের কারণ। ধূমপান করলে ক্যান্সার, হৃদরোগ ও শ্বাসযন্ত্রের রোগ হয়। যারা ধূমপান করে, তারা বেশিদিন বাঁচতে পারে না। এটি ব্যয়বহুলও। এছাড়া, বাংলাদেশে জনবহুল স্থানে প্রকাশ্যে ধূমপান করলে প্রচলিত আইনে জরিমানার বিধান রয়েছে। তাই সবার ধূমপান পরিহার করা উচিত।
"Smoking is very harmful to health. It pollutes the environment. Smoking is the cause of various diseases. Smoking causes cancer, heart disease, and respiratory diseases. Those who smoke cannot live long. It is also expensive. Moreover, there is a provision for fines under the existing law for smoking publicly in crowded places in Bangladesh. Therefore, everyone should avoid smoking."
১৮.
Correct form of verb:
(i) The Sun rises in the east.
(ii) The singer expressed her feeling by singing a song.
(iii) The boy went to the book shop to buy his text book.
(iv) The work is to be done immediately.
(v) I am looking forward to working with you.

0 Comments